
গরম খবর ডটকম | বিশেষ প্রতিবেদন
শিরোনাম:
নবীজির “কাতার সোজা করুন” ও মধ্যপ্রাচ্যের আজকের কাতার: এক আধ্যাত্মিক অনুপ্রেরণা থেকে জটিল রাজনৈতিক বাস্তবতা
১৪০০ বছর আগে মহান নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) আমাদের শিক্ষা দিয়েছিলেন নামাজে “কাতার সোজা করতে” — অর্থাৎ সোজাসুজি দাঁড়িয়ে একতাবদ্ধভাবে আল্লাহর নৈকট্য লাভের আহ্বান জানিয়েছিলেন। এই নির্দেশনা ছিল আধ্যাত্মিক সমন্বয়, শৃঙ্খলা ও পরিপূর্ণতা প্রতিষ্ঠার প্রতীক। নামাজে দাঁড়ানো কেবল একটি ভঙ্গি নয়, এটি আত্মার গভীর এক নিবেদন।
কিন্তু আজকের বাস্তবতায়, “কাতার” শব্দটি কেবল নামাজের সারি বোঝায় না—এটি হয়ে দাঁড়িয়েছে এক গভীর রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রতীক।
বিশ্ব মানচিত্রে “কাতার” এখন আর শুধু একটি আধ্যাত্মিক আদেশ নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও বিতর্কিত কেন্দ্রবিন্দু।
কাতার: যেখানে আল জাজিরার কণ্ঠস্বর উঠে, সেখানে আমেরিকার যুদ্ধের বিমানও উড়ে
বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী আরবি সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা কাতারে বসবাস করে। এই সংবাদমাধ্যম প্রায়শই জঙ্গি গোষ্ঠীর কণ্ঠস্বর তুলে ধরে, তাদের কর্মকাণ্ডকে ন্যায্যতা দেওয়ার চেষ্টা করে বলে পশ্চিমা বিশ্বে অভিযোগ পাওয়া যায়।
অন্যদিকে, একই কাতারে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম সামরিক ঘাঁটি, Al Udeid Air Base, যেখানে থেকে আমেরিকার যুদ্ধবিমান ও ড্রোন গুলি মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে, বিশেষ করে সিরিয়া, ইরাক ও ফিলিস্তানে হামলা চালায়।
দ্বৈত নীতি, দ্বন্দ্বপূর্ণ ভূমিকায় কাতার
কাতার একদিকে হামাসের অর্থায়নে হাত গলিয়েছে, অন্যদিকে আমেরিকার ঘাঁটি হিসেবে কাজ করছে — এক অর্থে এটি রাজনৈতিক দ্বৈতবাদের নিদর্শন।
এমনকি ফিলিস্তিনের প্রতি মানবিক সহানুভূতির মুখোশে কাতার নিজেকে মুসলিম বিশ্বের হৃদয়ে প্রতিষ্ঠিত করতে চায়, আর আমেরিকার সাথে ঘাঁটি দিয়ে নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বার্থও রক্ষা করে।
মধ্যপ্রাচ্যের পতন: কী শিক্ষণীয়?
সিরিয়া, ইরাক, মিশর—এসব দেশের ইতিহাস এবং আজকের বেদনার গল্প কাতারের এই জটিল ভূমিকাকে আরও স্পষ্ট করে।
বহু বছর ধরে চলা লুটপাট, সংঘাত ও বিভাজনের পেছনে আছে বিশ্ব শক্তির স্বার্থ, দ্বৈতনীতি ও রাজনৈতিক ছলনা।
আজকের চিন্তা
নবীজি ১৪০০ বছর আগে বলেছিলেন, নামাজে “কাতার সোজা করতে।”
আজকের কাতার যেন সেই আদর্শের পরিপন্থী, যেখানে রাজনীতি ও যুদ্ধের কুৎসিত খেলা চলছে, আর মুসলমানদের ঐক্য ভেঙে পড়ছে।
এই জটিলতায় আমরা কি হারাবো আত্মিক ঐক্য? নাকি ফিরে আসবো নবীজির পথ অনুসরণে — যেখানে কাতার মানে হবে ঐক্য, শৃঙ্খলা ও ঈমানের সমন্বয়?
আল জাজিরা ও কথিত জুলাই ছাত্র অভ্যুত্থান: কার পক্ষে তারা?
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট, বাংলাদেশের ইতিহাসে এক গভীর বেদনার দিন।
“কথিত জুলাই ছাত্র অভ্যুত্থান” নামে পরিচিত একটি অরাজনৈতিক মুখোশধারী আন্দোলনের নামে দেশজুড়ে শুরু হয় সংঘাত, বিশৃঙ্খলা ও সরকার পতনের পরিকল্পিত তৎপরতা।
এই ঘটনাপরম্পরায় দেশের সম্মানিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা—যিনি বঙ্গবন্ধুর কন্যা এবং বাংলাদেশের উন্নয়নের স্থপতি—তাকে দেশ ত্যাগে বাধ্য করা হয়।
ঘটনার গভীরে গেলে দেখা যায়, এই তথাকথিত ছাত্র আন্দোলনের আড়ালে ছিল দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র।
একদিকে সুশৃঙ্খলভাবে সাজানো সোশ্যাল মিডিয়া প্রচারণা, অন্যদিকে মাঠে নামানো হয় মুখোশধারী চরমপন্থী গোষ্ঠী, যারা “ছাত্র” পরিচয়ে দেশজুড়ে সহিংসতা চালায়।
আল জাজিরার ভূমিকা
এই ভয়ানক ঘটনার সময় কাতার ভিত্তিক টেলিভিশন চ্যানেল ‘আল জাজিরা’ ছিল কার্যত এই তথাকথিত আন্দোলনের মিডিয়া ফ্রন্ট।
তারা একদিকে শেখ হাসিনা সরকারকে সন্ত্রাসী বলে আখ্যায়িত করেছে, অন্যদিকে সশস্ত্র বা সহিংস গোষ্ঠীগুলোকেও “ছাত্র আন্দোলনকারী” হিসেবে তুলে ধরেছে। সত্যিকার অর্থে, সেই সময় দেশের জনগণ, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঐক্যবদ্ধভাবে দেশকে রক্ষা করলেও, আল জাজিরা তাদের সমস্ত প্রচারে সেই চিত্র এড়িয়ে গেছে।
এমনকি ১৬ জুলাই ২০২৫ এ তথা কথিত ছাত্রদের দ্বারা তৈরি রাজনৈতিক দল কিংস পার্টি খ্যাত জাতীয় নাগরিক পার্টি(NCP) কর্তৃক জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মাজার ভাঙার অপচেষ্টা, এলাকাবাসীর প্রতিরোধ, সেনাবাহিনী-পুলিশের দমন-পীড়ন , যার ফলে ৪-৫ জনের মৃত্যু এবং সহস্রাধিক আহত—সব কিছুতেই তারা উল্টো ব্যাখ্যা করেছে।
প্রশ্ন উঠে: তারা কার পক্ষে?
একদিকে হামাস, মুসলিম ব্রাদারহুড ও বিভিন্ন জঙ্গিগোষ্ঠীর প্রতি সহানুভূতি—অন্যদিকে বাংলাদেশের নির্বাচিত সরকার, প্রধানমন্ত্রী ও মুক্তিযুদ্ধের আদর্শকে সন্ত্রাসী আখ্যা। আবার একই সাথে মধ্যপ্রাচ্যের সবথেকে বড় সামরিক ঘাটি যা কাতারে এবং সেই সামরিক ঘাটি থেকেই অপারেশন চালানো হয়েছিল সিরিয়া, মিশর , ফিলিস্তিন, লিবিয়া সহ আরো অনেক দেশ। এমন দ্বৈত সাংবাদিকতা, রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত রিপোর্টিং এবং প্রোপাগান্ডা মূলক কন্টেন্ট—আল জাজিরার আসল চেহারাই উন্মোচন করে।
এই দ্বিতীয় প্রতিপাদন যুক্ত হয়ে কাতারের সামগ্রিক ভূমিকাকে আরও স্পষ্ট করে তোলে—তারা কীভাবে একদিকে আমেরিকার সামরিক ঘাঁটি দিচ্ছে, অন্যদিকে জঙ্গি, বিদ্রোহী ও তথাকথিত বিপ্লবীদের প্রচারে জ্বালানি দিচ্ছে।
এই জুম্মাবারে আমরা সবাই যেন হৃদয়ের কাতার সোজা করি—ঐক্য করি, শান্তির জন্য প্রার্থনা করি এবং মধ্যপ্রাচ্যের পীড়িত জনগণের মুক্তির স্বপ্ন দেখি।
গরম খবর ডটকম
নিজস্ব প্রতিবেদক
১৮ জুলাই, জুম্মাবার, ২০২৫
