💥 গরম খবর ডট কম: নিজস্ব প্রতিবেদন 💥
সেন্টমার্টিন খুলছে, কিন্তু জাহাজ চলবে না: কঠোর সরকারি বিধিনিষেধ মানতে নারাজ মালিকরা, পর্যটন ব্যবসায়ীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ
কক্সবাজার: দীর্ঘ ৯ মাস বন্ধ থাকার পর দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত হলেও, দ্বীপটির ভাগ্য অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। আগামী ১ নভেম্বর থেকে সেন্টমার্টিন খুলে দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তের পর পরই জাহাজ মালিকরা ধর্মঘটের ঘোষণা দিয়েছেন। পরিবেশ রক্ষার নামে পর্যটকদের ওপর অতিরিক্ত কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ এবং নভেম্বর মাসে রাত্রিযাপন নিষিদ্ধ করার প্রতিবাদে তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এই প্রতিবাদী পদক্ষেপের মাধ্যমে জাহাজ মালিক ও পর্যটন ব্যবসায়ীরা সরকারের পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার তীব্র সমালোচনা করেছেন, যেখানে স্পষ্ট বলা হয়েছে—নভেম্বর মাসে পর্যটকদের কেবল দিনে গিয়ে দিনে ফিরতে হবে, কোনোভাবেই রাত্রিযাপন করা যাবে না।
প্রতিবাদের ভাষা: কঠোরতা কেন?
পর্যটন ব্যবসায়ীদের স্পষ্ট প্রশ্ন—আগের বছরগুলোতে নভেম্বর মাসে রাত্রিযাপনসহ স্বাভাবিক পর্যটন চললেও, এবার কেন এত কঠোরতা? মালিকপক্ষ অভিযোগ করেছে, কেবল দিনের বেলা ভ্রমণের সুযোগ রাখলে পর্যটকের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমবে, ফলে জাহাজ চালানো অর্থনৈতিকভাবে অসম্ভব।
📢 গরম খবর ডট কম-এর প্রতিবাদ: “দ্বীপের পরিবেশ রক্ষা নিঃসন্দেহে জরুরি, কিন্তু বিগত বছরগুলোতে যে স্বাভাবিক পর্যটন চলেছিল, তাতে পরিবেশের এত বড় ক্ষতি হয়নি যে রাতারাতি এমন কঠোর নিষেধাজ্ঞা দিতে হবে। আওয়ামী লীগ সরকারের আগের সময়গুলোতে পর্যটকদের ওপর এমন মাত্রাতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ ছিল না। এমন কঠোরতা কি পর্যটন শিল্পের ক্ষতি করে স্থানীয় অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দেওয়ার নামান্তর নয়? এই সিদ্ধান্ত স্থানীয় ব্যবসায়ীদের জীবিকা ও দেশের পর্যটনকে গভীর সংকটে ফেলছে।”
জাহাজ বন্ধের মূল কারণ
সী ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক জানিয়েছেন, জাহাজ বন্ধ রাখার প্রধান দুটি কারণ হলো:
১. পর্যটকদের বাধ্যতামূলক অনলাইন টিকিট (QR কোড সম্বলিত ট্রাভেল পাস) সংগ্রহের জন্য ট্যুরিজম বোর্ডের সফটওয়্যারটি এখনও প্রস্তুত নয়।
২. দিনে গিয়ে দিনে ফেরার (ডে-ট্রিপ) সিদ্ধান্তে পর্যটক পাওয়া যাবে না, ফলে ১ নভেম্বর থেকে সেন্টমার্টিনের উদ্দেশ্যে কোনো জাহাজ চালানো সম্ভব নয়।
মালিকরা ঘোষণা করেছেন, তারা ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাস থেকে জাহাজ চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। কারণ, ওই দুই মাস সরকার দৈনিক ২,০০০ পর্যটককে রাত্রিযাপনের সুযোগ দেবে, যা কিছুটা হলেও ব্যবসায়ীদের ক্ষতি কমাতে সাহায্য করবে।
সরকারি নির্দেশনার বিস্তারিত
সরকার সেন্টমার্টিনের প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। এই নির্দেশনা অনুযায়ী, নভেম্বর মাসে কোনো পর্যটক রাতে দ্বীপে থাকতে পারবেন না। আর ফেব্রুয়ারি মাসে পর্যটকদের প্রবেশ সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে।
এছাড়াও, পর্যটকদের জন্য নিম্নলিখিত কাজগুলো কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে:
- সৈকতে রাতে আলো জ্বালানো, শব্দ সৃষ্টি বা বারবিকিউ পার্টি করা যাবে না।
- কেয়াবনে প্রবেশ, কেয়া ফল সংগ্রহ বা বিক্রি করা যাবে না।
- সামুদ্রিক কচ্ছপ, পাখি, প্রবাল, শামুক-ঝিনুক সহ যেকোনো জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি করা যাবে না।
- সৈকতে মোটরসাইকেল, সি-বাইক সহ যেকোনো মোটরচালিত যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধ।
- পলিথিন ও একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক (যেমন চিপস প্যাকেট, প্লাস্টিকের বোতল) বহন নিরুৎসাহিত করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, এই নির্দেশনাগুলো কঠোরভাবে কার্যকর করা হবে এবং নিরাপত্তার স্বার্থে এবার জাহাজগুলো টেকনাফের পরিবর্তে কক্সবাজার শহরের নুনিয়াছড়া ঘাট থেকে চলাচল করবে।
